দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিম প্লান:
দক্ষিণ আর পশ্চিম সিকিম এর জায়গা গুলো একসাথে ঘোরা যায়, আবার আলাদা ভাবেও ঘোরা যায়। আমি এখানে একসাথে মিক্স করে দিচ্ছি যাতে একবারে একটা সাইড কভার করে নিতে পারেন।
◆ প্ল্যান_নং:১
প্রথম_দিন: NJP থেকে নামচি যান। নামচি ঘুরে সেখান থেকে সামদ্রূপটসে দেখে টেমি টি গার্ডেন দেখে নিন। চলে আসুন রাবাংলা।
দ্বিতীয়_দিন: রাবাংলা ঘুরুন, ঘুরে আসুন রা-লং মনাস্ট্রি থেকে।
তৃতীয়_দিন: রাবাংলা থেকে রিনচেনপং।
চতুর্থ_দিন: রিনচেনপং ও কালুক এর আশেপাশে ঘুরুন। দেখে নিন পশ্চিম সিকিম এর কয়েকটি জায়গা যেমন সিংসর ব্রিজ, উত্তরে ও হি-বার্মিওক।
পঞ্চম_দিন: রিংচেনপং থেকে NJP
◆ প্ল্যান_নং: ২
প্রথম_দিন: NJP থেকে পেলিং যান।
দ্বিতীয়_দিন: পেলিং থেকে খেছিপেরি লেক দেখুন, তারপর কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্ দেখে ইউকসম্ আসুন। রাতে আবার পেলিং।
তৃতীয়_দিন: পেলিং থেকে রাবাংলা চলে যান পেমায়াঙটসে মনাস্ট্রি দেখে, অথবা পেলিং থেকে সিংসর ব্রিজ, উত্তরে ও হি-বার্মিওক দেখে রিনচেনপং চলে আসুন।
চতুর্থ_দিন: রিনচেনপং থাকলে NJP ব্যাক করুন, রাবাংলা থাকলে রাবাংলা ও রালং ঘুরুন। এক্ষেত্রে তার পরের দিন NJP ব্যাক করবেন।
■ কোন_সময়_যাবেন?
উত্তর সিকিম যাওয়ার সময় হল সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে মে। এর আগে-পরে গেলে বরফে বা বর্ষায় রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকবে। উত্তর সিকিম খুব ধস প্রবন এলাকা, তাই বছরের যে কোনো সময়ই রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিম সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে বর্ষায় কোনো কোনো জায়গায় যেতে সমস্যা হতে পারে। পূর্ব সিকিম এ জুলুক ও নাথাং ভ্যালি এবং ছাঙ্গু লেক তৎসহ বাবামন্দির/নাথুলা যেতে গেলে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে মে এর মধ্যে যাওয়াই ভালো। গ্যাংটক যে কোনো সময় ই যাওয়া যায়। তবে এইসব পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষার 3 মাস পর্যটক খুব কমই যান। জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস প্রচন্ড বৃষ্টি হয়, বেড়ানোর মজা চলে যায়। তাই এই তিন মাস সেরা সময় নয়।
● কোথায়_থাকবেন?
বাজেট ও ট্রাভেল প্লান অনুযায়ী আপনি প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে থাকার জন্যে, খাওয়ার জন্যে নানারকম অপশন পেয়ে যাবেন। কোথাও হোটেল পাবেন তো কোথাও কোথাও হোমস্টেও পাবেন। আপনার রুচি ও বাজেট অনুসারে নিজেই গুগল সার্চ করে রিভিউ দেখে ছবি দেখে সিলেক্ট করে নেবেন। আমি এই মুহূর্তে কোনো হোটেল বা হোমস্টের নাম উল্লেখ করছি না, আপনারা স্পট বুকিং বা অগ্রিম বুকিং প্রয়োজন মত করে নিতে পারবেন এটা বিশ্বাস করি।
◆ কিভাবে_যাবেন?
★ বিমান_মাধ্যমে:
গ্যাংটকের কাছে সিকিমের একমাত্র বিমানবন্দর পাকইয়োং বিমানবন্দর চালু হয়েছে যা সবচেয়ে নিকটবর্তী। কলকাতা থেকে সিকিমের ফ্লাইট চালু হলেও বেশিরভাগ সময়েই ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়ে যায়, তাই বাগডোগড়া বিমান বন্দর হয়ে আসায় শ্রেয়। বিমানবন্দরটি গ্যাংটক থেকে ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং গাড়ি বুক করে গেলে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘন্টা মত সময় লাগবে। কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।
★ রেল_মাধ্যমে
গ্যাংটকের নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন হল শিলিগুড়িতে অবস্থিত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (NJP)। স্টেশনটি গ্যাংটক শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গাড়ির মাধ্যমে ৪ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যেতে পারে।
মোটামুটি একটা আইডিয়া তো আশা করি পেয়ে গেলেন, তাহলে করোনা পরিস্থিতি সব স্বাভাবিক হলে করে ফেলুন নিজের প্ল্যান নিজেই। মন যেরকম চায় সেই মতো পরিকল্পনা করবেন, এছাড়া অন্য কোনো সাহায্য লাগলে বাঙালির বেড়ানো গ্রুপ আপনাদের জন্য সর্বদা আছে।