WHAT'S NEW?
Loading...

সিকিম বেড়ানোর প্ল্যান ...

এই প্রতিবেদন একবার ভালো ভাবে পড়ে নেওয়ার পর, সিকিম বেড়াতে যাওয়ার আগে কারোর কোনোরকম সাহায্য আপনার লাগবে না।

আমাদের গ্রুপে প্রায়ই দেখি অনেকেই পোস্ট করেন সিকিম বেড়াতে যাবেন, কিন্তু কি ভাবে যাবেন, কোথায় কোথায় ঘুরবেন, ট্রাভেল প্লান কি হবে কিছুই জানা নেই। তাঁদের সকলের জন্যে এই পোস্ট। আজ ভাবলাম এই পোস্টটা করি যাতে গ্রুপের সদস্যরা সিকিম নিয়ে একটু আইডিয়া পান আর তা থেকেই নিজেরাই যাতে খানিকটা নিজের নিজের ঘোরার প্ল্যান করে নিতে পারেন। ঘুরতে যাচ্ছেন আপনি, সুতরাং ঘুরবেন নিজের ইচ্ছাই, ট্রাভেল প্লানও বানাবেন আপনি। আসলে আমি সেই দলের লোক যাঁরা কিনা বেড়াতে যাওয়ার আগে পড়াশুনো করেন, নিজের প্ল্যান নিজেই তৈরি করেন, আর নিজেই বুকিং করে ঘুরতে ভালোবাসেন। তাই আমিও চাই আপনারা সেইভাবেই ঘুরুন, দেখবেন ঘোরার মজা অনেক বেড়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, কয়েকটি জায়গায় আপনাকে হয়তো ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করেন এমন অভিজ্ঞ সৎ মানুষের সাহায্য নিতে হতে পারে।



সিকিম বেড়াতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে অবগত হওয়ার প্রয়োজন, তাই সামান্য কয়কেটি টিপস্:

১. গ্যাংটকে পাবলিক প্লেসে স্মোকিং করলে জরিমানা দিতে হবে।
২. সিকিম হল গ্রীন এন্ড ক্লিন স্টেট, তাই যেখানে সেখানে থুতু ফেলা, চিপস্-এর প্যাকেট ফেলা ও নোংরা আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ।

আরো কয়েকটি কথা:
আমার এই প্ল্যান ইন ডিটেল প্ল্যান নয়, ঘোরার ইচ্ছে উস্কে দিয়ে, কি ভাবে শুরু করবেন সেটা বাতলে দেয়ার জন্য। আমি আশা করবো আপনারা এই আইডিয়া থেকে নিজেদের প্ল্যান নিজেরাই বানিয়ে নিতে পারবেন। আর হ্যাঁ একটা কথা, গাড়ি রিজার্ভ করে ফ্যামিলি নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার মতো প্ল্যান এটা, তাই কয়েকটি জায়গা ইচ্ছে করেই বাদ দিলাম। সাথে ট্রেক রুট গুলোও দিলাম না।

তাহলে শুরু করা যাক;

তো যে জায়গা নিয়ে কথা হচ্ছিল সেই সিকিম ঘোরার মধ্যে কয়েকটা ব্যাপার আছে। আসুন আগে আমরা জেনে নেই সিকিম এর ব্যাপারে, কয়েকটা তথ্য ও দ্রষ্টব্য স্থানগুলো। সিকিম এ মাত্র ৪ টি জেলা, আর নাম মনে রাখাও বেশ সোজা। উত্তর সিকিম, পূর্ব সিকিম, দক্ষিণ সিকিম আর .... বাকিটা আপনিই বলুন, এটাও আমাকে বলতে হবে? 
😄😄


চলুনএবার দেখে নেয়া যাক কোন জেলায় কি কি দেখার আছে।

উত্তর সিকিম:
সিঙ্গিক, লাচুং, ইয়ুমথাং, কাটাও (যদি মেলে পারমিশন), জিরো পয়েন্ট, লাচেন, গুরুদংমার লেক।

পূর্ব সিকিম:
ঋষিখোলা, আরিতার, জুলুক, নাথাং ভ্যালি, কুপুপ লেক, ওল্ড বাবা মন্দির, নাথুলা, ছাঙ্গু লেক, গ্যাংটক।

দক্ষিণ সিকিম:
নামচি, টেমি টি-গার্ডেন, সামদ্রূপটসে, রাবাংলা, রিনচেনপং, কালুক।

পশ্চিম সিকিম:
পেলিং, উত্তরে, সিংসর ব্রিজ, ইউকসম, কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস, খেছিপেরি লেক ইত্যাদি।

তাহলে এবার ছোট্ট করে প্ল্যান করে ফেলা যাক। সব প্ল্যান শুরু হচ্ছে NJP থেকে আর শেষও হচ্ছে NJP তেই। আপনি চাইলে NJP এর জায়গায় বাগডোগরা করে নিতে পারেন।


উত্তর সিকিম বেড়ানোর প্লান:

প্রথম দিন: NJP থেকে সোজা গ্যাংটক।

দ্বিতীয় দিন: গ্যাংটক থেকে লাচেন।

তৃতীয় দিনলাচেন থেকে গুরুদংমার লেক। সেখান থেকে ফিরে আসুন লাচুং-এ।

চতুর্থ দিনলাচুং থেকে ইয়ুমথাং ভ্যালী আর জিরো পয়েন্ট। সেখান থেকে লাচুং ও চুংথাং হয়ে গ্যাংটক ফিরে আসুন।

পঞ্চম দিন: গ্যাংটক থেকে NJP.

টিপস: চাইলে, চতুর্থ দিন গ্যাংটক ফিরে আসতে পারেন। সে অনুযায়ী প্ল্যান চেঞ্জ হবে।

কাটাও ভ্যালি যাবার পারমিশন পেলে তৃতীয় দিন আর চতুর্থ দিনের মাঝে আর এক দিন যোগ করুন, তৃতীয় দিনের দ্রষ্টব্য এর সাথে কাটাও যোগ করে নিন এবং রাতে লাচুং এ থাকুন, পরের দিন একেবারে লাচেন চলে যান।

শুধু ইয়ুমথাং ও জিরো পয়েন্ট বা শুধু গুরুদংমার ঘুরতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাটছাট করে নিতে পারেন।

** মনে রাখবেন এই জায়গাগুলি খুব বিপদজনক সুতরাং শারীরিক কোনো সমস্যা হলে সাথে সাথে নীচে নেমে আসুন ঘোরার মায়া ত্যাগ করে মেডিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে নিন। বয়স্ক ও বাচ্চাদের কিছু কিছু জায়গা যেমন গুরুদংমার বা জিরো পয়েন্ট না যাওয়াই ভালো। **

পূর্ব সিকিম বেড়ানোর প্লান:

#প্ল্যান_নং: ১
#প্রথম_দিন: NJP থেকে গ্যাংটক।

#দ্বিতীয়_দিন: গ্যাংটক ও তার আশেপাশের দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরে দেখুন।

#তৃতীয়_দিন: ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা আর সাথে বাবামন্দির ঘুরে আসুন।

#চতুর্থ_দিন: গ্যাংটক থেকে NJP

#টিপস: এই প্ল্যান এ আরো কয়েক টা দিন বাড়াতে চাইলে নামচি, রাবাংলা ও পেলিং জুড়ে নিন।



#প্ল্যান_নং: ২ (সিল্ক রুট প্লান)
#প্রথম_দিন: NJP থেকে ঋষিখোলা।

#দ্বিতীয়_দিন: ঋষিখোলা থেকে আরিতার দেখে চলে আসুন জুলুক।

#তৃতীয়_দিন: জুলুক থেকে নাথাং ভ্যালি ও কুপুপ লেক ওল্ড বাবা মন্দির দেখে ফিরে আসুন পদমচেন-এ।

#চতুর্থ_দিন: পদমচেন থেকে নীচে নামুন রোলেপে।

#পঞ্চম_দিন: রোলেপ থেকে NJP.



◆ প্ল্যান_নং: ৩
প্রথম দিনNJP থেকে ঋষিখোলা।

দ্বিতীয়_দিন: ঋষিখোলা থেকে আরিতার দেখে চলে আসুন জুলুক।

তৃতীয়_দিন: জুলুকেই একদিন কাটান। শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে তাই লোয়ার জুলুক মানে পদমচেনে থাকুন।

চতুর্থ_দিন: জুলুক থেকে নাথাং ভ্যালি হয়ে কুপুপ লেক, নাথুলা, বাবামন্দির, ছাঙ্গু লেক দেখে গ্যাংটক।

পঞ্চম_দিনগ্যাংটক থেকে NJP

টিপস: চাইলে গ্যাংটক এ পরের দিন থেকে আশেপাশের দ্রষ্টব্য স্থানে বেড়াতে যান, মানে এক্ষেত্রে আরো এক দিন যোগ হবে।

** বয়স্ক দের না নিলেই ভালো হবে ৩ নং প্ল্যান এ। ১ নং ও ২ নং এর তেমন কোনো প্রবলেম নেই। সেক্ষেত্রে নাথুলা ও ছাঙ্গু লেকেও বয়স্কদের নিয়ে যেতে পারেন। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে বেড়াতে গেলে শ্বাসকষ্ট বা বমি ভাব হবে, তাই কম পরিমানে খাবার খাবেন, জল বেশি করে খাবেন। এছাড়া রেগুলার মেডিসিন সবই নিতে থাকবেন।



দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিম প্লান:

দক্ষিণ আর পশ্চিম সিকিম এর জায়গা গুলো একসাথে ঘোরা যায়, আবার আলাদা ভাবেও ঘোরা যায়। আমি এখানে একসাথে মিক্স করে দিচ্ছি যাতে একবারে একটা সাইড কভার করে নিতে পারেন।

◆ প্ল্যান_নং:১
প্রথম_দিন: NJP থেকে নামচি যান। নামচি ঘুরে সেখান থেকে সামদ্রূপটসে দেখে টেমি টি গার্ডেন দেখে নিন। চলে আসুন রাবাংলা।

দ্বিতীয়_দিন: রাবাংলা ঘুরুন, ঘুরে আসুন রা-লং মনাস্ট্রি থেকে।

তৃতীয়_দিন: রাবাংলা থেকে রিনচেনপং।

চতুর্থ_দিন: রিনচেনপং ও কালুক এর আশেপাশে ঘুরুন। দেখে নিন পশ্চিম সিকিম এর কয়েকটি জায়গা যেমন সিংসর ব্রিজ, উত্তরে ও হি-বার্মিওক।

পঞ্চম_দিন: রিংচেনপং থেকে NJP


◆ প্ল্যান_নং: ২
প্রথম_দিন: NJP থেকে পেলিং যান।

দ্বিতীয়_দিন: পেলিং থেকে খেছিপেরি লেক দেখুন, তারপর কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস্ দেখে ইউকসম্ আসুন। রাতে আবার পেলিং।

তৃতীয়_দিন: পেলিং থেকে রাবাংলা চলে যান পেমায়াঙটসে মনাস্ট্রি দেখে, অথবা পেলিং থেকে সিংসর ব্রিজ, উত্তরে ও হি-বার্মিওক দেখে রিনচেনপং চলে আসুন।

চতুর্থ_দিন: রিনচেনপং থাকলে NJP ব্যাক করুন, রাবাংলা থাকলে রাবাংলা ও রালং ঘুরুন। এক্ষেত্রে তার পরের দিন NJP ব্যাক করবেন।

■ কোন_সময়_যাবেন?

উত্তর সিকিম যাওয়ার সময় হল সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে মে। এর আগে-পরে গেলে বরফে বা বর্ষায় রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকবে। উত্তর সিকিম খুব ধস প্রবন এলাকা, তাই বছরের যে কোনো সময়ই রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিম সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে বর্ষায় কোনো কোনো জায়গায় যেতে সমস্যা হতে পারে। পূর্ব সিকিম এ জুলুক ও নাথাং ভ্যালি এবং ছাঙ্গু লেক তৎসহ বাবামন্দির/নাথুলা যেতে গেলে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে মে এর মধ্যে যাওয়াই ভালো। গ্যাংটক যে কোনো সময় ই যাওয়া যায়। তবে এইসব পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষার 3 মাস পর্যটক খুব কমই যান। জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস প্রচন্ড বৃষ্টি হয়, বেড়ানোর মজা চলে যায়। তাই এই তিন মাস সেরা সময় নয়।

● কোথায়_থাকবেন?
বাজেট ও ট্রাভেল প্লান অনুযায়ী আপনি প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে থাকার জন্যে, খাওয়ার জন্যে নানারকম অপশন পেয়ে যাবেন। কোথাও হোটেল পাবেন তো কোথাও কোথাও হোমস্টেও পাবেন। আপনার রুচি ও বাজেট অনুসারে নিজেই গুগল সার্চ করে রিভিউ দেখে ছবি দেখে সিলেক্ট করে নেবেন। আমি এই মুহূর্তে কোনো হোটেল বা হোমস্টের নাম উল্লেখ করছি না, আপনারা স্পট বুকিং বা অগ্রিম বুকিং প্রয়োজন মত করে নিতে পারবেন এটা বিশ্বাস করি।

◆ কিভাবে_যাবেন?

★ বিমান_মাধ্যমে:
গ্যাংটকের কাছে সিকিমের একমাত্র বিমানবন্দর পাকইয়োং বিমানবন্দর চালু হয়েছে যা সবচেয়ে নিকটবর্তী। কলকাতা থেকে সিকিমের ফ্লাইট চালু হলেও বেশিরভাগ সময়েই ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়ে যায়, তাই বাগডোগড়া বিমান বন্দর হয়ে আসায় শ্রেয়। বিমানবন্দরটি গ্যাংটক থেকে ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং গাড়ি বুক করে গেলে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘন্টা মত সময় লাগবে। কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।

★ রেল_মাধ্যমে
গ্যাংটকের নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন হল শিলিগুড়িতে অবস্থিত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (NJP)। স্টেশনটি গ্যাংটক শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গাড়ির মাধ্যমে ৪ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যেতে পারে।

মোটামুটি একটা আইডিয়া তো আশা করি পেয়ে গেলেন, তাহলে করোনা পরিস্থিতি সব স্বাভাবিক হলে করে ফেলুন নিজের প্ল্যান নিজেই। মন যেরকম চায় সেই মতো পরিকল্পনা করবেন, এছাড়া অন্য কোনো সাহায্য লাগলে বাঙালির বেড়ানো গ্রুপ আপনাদের জন্য সর্বদা আছে।


এই মুহূর্তে এই পোস্ট শুধুমাত্র আপনাদের নলেজ বাড়ানোর জন্যেই দেওয়া হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যত দিন না হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেড়াতে যাবেন না। তবে এও আশা করি যে সবকিছু আবার পূর্বাবস্থায় খুব শীঘ্রই ফিরে আসবে, সবাই মিলে ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনায় করি।

এই পোস্টটি খুবই কাজের তাই অবশ্যই এইটা সবার সাথে শেয়ার করুন। আপনারা অনেকেই  WhatsApp বা  Telegram-এ বিভিন্ন গ্রুপে আছেন, সেইসব গ্রুপেও শেয়ার করতে পারেন।

©বাঙালির বেড়ানো।

0 comments:

Post a Comment